ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
২০২৩ সালের পরিসংখ্যান * দেশে বিদেশি নাগরিক ১ লাখ ৭ হাজার ১৬৭ জন * ২৪ বছরে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স বেড়েছে সোয়া ১১ গুণ * একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে বিদেশি কর্মীদের নিজ দেশে বৈদেশিক মুদ্রা নেয়ার প্রবণতা সোয়া ৩৭ গুণ

বাংলাদেশ থেকে বিপুল টাকা নিয়ে যাচ্ছে বিদেশী কর্মীরা

  • আপলোড সময় : ২৯-০৭-২০২৪ ০৯:৫১:২০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০৭-২০২৪ ০৯:৫৭:০৫ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশ থেকে বিপুল টাকা নিয়ে যাচ্ছে বিদেশী কর্মীরা
বিদেশী কর্মীরা বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নিজ দেশে নিয়ে যাচ্ছেযার পরিমাণ বিদেশ থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের কয়েকগুণ বেশি২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২৪ বছরে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে সোয়া ১১ গুণআর একই সময়ে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা নিজ দেশে বৈদেশিক মুদ্রায় নেয়ার প্রবণতা সোয়া ৩৭ গুণ বেড়েছেস্বাভাবিকভাবেই রেমিট্যান্স বৃদ্ধির চেয়ে বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা নেয়ার প্রবণতা বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ছেশুধু ২০২৩ সালেই বিদেশি কর্মীরা বাংলাদেশ থেকে বেতন-ভাতা বাবদ বৈদেশিক মুদ্রায় নিয়েছেন ১৫ কোটি ডলারওই সময়ে ডলারের দাম অনুযায়ী ১,৬৫০ কোটি টাকাআর বৈধভাবে নেয়ার চেয়ে আরও বেশি অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে নেয়া হচ্ছেঅর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকারের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশে অবস্থানরত বৈধ বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭ হাজার ১৬৭ জনএর মধ্যে বেশি ভারতীয় নাগরিক, দ্বিতীয় অবস্থানে চীনের নাগরিকভারতীয় ৩৭ হাজার ৪৬৪ এবং চীনের ১১ হাজার ৪০৪ জনবাকিরা অন্যান্য দেশেরতাদের বেশির ভাগই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী হিসাবে নিয়োজিতএর বাইরে অবৈধভাবে আরও অনেক বিদেশি আছেন, যাদের হিসাব এর মধ্যে নেইআইন অনুযায়ী বাংলাদেশে অবস্থান করে কাজ করলে আয়কর প্রদান ও কাজের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলকদেশে কাজ করতে হলে বিদেশিদের এ-থ্রি ভিসা নিতে হয়২০০৬ সালে প্রণীত ভিসা নীতিমালা সংশোধন করে প্রকল্পে কাজ করলে এ-থ্রি ভিসা নেয়ার বিধানটি তুলে দেয়া হয়ফলে ওই সময়ের পর থেকে এ থ্রি ভিসা ছাড়াই বিদেশি কর্মীরা কাজ করতে পারছেএতে দেশে আসা বিদেশিদের কাজের ধরন সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য সরকারের কোনো সংস্থার কাছে নেইতবে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিদের একটি তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছেসূত্র জানায়, বৈধ বিদেশি কর্মীরা যেমন বাংলাদেশ থেকে বৈধ ও অবৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে, তেমনই অবৈধ কর্মীরাও হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এক তদন্তে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উচ্চতর বেতন-ভাতা দেয়ার নামে দেশ থেকে টাকা পাচারের ঘটনা ধরা পড়েছেএমনকি বিদেশি কর্মী নেই অথচ তার নামে ব্যাংকিং চ্যানেলে বিদেশে বেতন-ভাতা পাঠানো ঘটনাও ধরা পড়েছে২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২৪ বছরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে ৩৭ দশমকি ২৬ গুণঅথচ একই সময়ে বিদেশ থেকে প্রবাসীদের বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে ১১ দশমিক ২৬ গুণসূত্র আরো জানায়, রেমিট্যান্সের তিনগুণের বেশি বেড়েছে বিদেশি কর্মীদের বেতনভাতা বাবদ বৈদেশিক মুদ্রা নেয়ার প্রবণতাবছরভিত্তিক হিসাবেও দেখা যাচ্ছে রেমিট্যান্সের চেয়ে বেশি বাড়ছে বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা নেয়ার পরিমাণ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে দেশে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩ শতাংশএকই সময়ে বিদেশি কর্মীদের দেশ থেকে বেতন-ভাতা নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ২০০০ ও ২০০১ সালে বিদেশি কর্মীরা বাংলাদেশ থেকে বছরে ৪০ লাখ ডলার করে নিয়েছেন ৮০ লাখ ডলার২০০২ ও ২০০৬ সালে ৬০ লাখ ডলার করে ১ কোটি ২০ লাখ, ২০০৩ সালে ৭০ লাখ, ২০০৪ ও ২০০৯ সালে ৮০ লাখ করে ১ কোটি ৬০ লাখ এবং ২০০৬ ও ২০০৭ সালে ৩০ লাখ করে নিয়েছেন ৬০ লাখ ডলারআর ২০০৮ সালে প্রথমবার বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা নেয়ার প্রবণতা কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়ওই বছর তারা নিয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার২০১০ সালে আবার কিছুটা কমে ৯০ লাখ ডলার নেয়া হয়২০১১ ও ২০১২ সালে নিয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ করে ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার২০১৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ডলারে২০১৪ সালে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারে২০১৫ সালে ৩ কোটি ২০ লাখ, ২০১৬ সালে ৪ কোটি ১০ লাখ এবং ২০১৭ সালে ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার নিয়েছেন২০১৮ সালে ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারে দাঁড়ায়২০১৯ সালে বিদেশি কর্মীদের বেতনভাতা নেওয়ার প্রবণতা আরও বেড়ে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার হয়২০২০ সালে ৯ কোটি ৫০ লাখ, ২০২১ সালে ১০ কোটি এবং ২০২২ সালে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার নেওয়া হয়২০২৩ সালে নেওয়া হয় ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা মোট জিডিপির দশমিক ০৩ শতাংশএদিকে বাংলাদেশে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় এবং বড় শিল্পগুলোয় বিদেশী কর্মীদের সংখ্যা বেড়েছেএ কারণে তাদের বেতন-ভাতা নেয়ার প্রবণতাও বেড়েছেবর্তমানে বিদেশী কর্মীরা যে বেতন-ভাতা পান, এর ৭৫ শতাংশ তিনি নিজ দেশে বা অন্য কোনো দেশে বৈদেশিক মুদ্রায় পাঠাতে পারেন
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স